নির্বাচনী ইশতেহারে সাইবার নিরাপত্তার অঙ্গীকার দাবি
আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলির নির্বাচনে ইশতেহারে পঞ্চম শিল্প বাস্তবায়নের কর্মপরিকল্পনার পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির অপব্যবহার রোধে অঙ্গীকার থাকা জরুরি বলে মনে করছে গ্রাহক অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠন বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক এসোসিয়েশন। রবিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, আগামী ৭ জানুয়ারি দেশে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে। ২-৪ দিনের মধ্যে সকল রাজনৈতিক দল হয়তোবা তাদেরো নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করবেন। আগামী দিনে চতুর্থ ও পঞ্চমশিল্প বাস্তবায়নের চ্যালেঞ্জের পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে সরকারের জন্য।
তিনি আরো বলেন, আমরা ইতিমধ্যে লক্ষ্য করেছি বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল তাদের নির্বাচনী ইশতেহার প্রকাশ করেছে যেখানে চতুর্থ বা পঞ্চম শিল্প বাস্তবায়নের অঙ্গীকার বা সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোন পরিকল্পনা উল্লেখ করেনি। কিন্তু আগামী দিনে জঙ্গি হামলা বা সন্ত্রাস যায় কিছু বলি তার চাইতে বড় সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালিত হবে সাইবার হামলার মাধ্যমে। আমরা নিশ্চয়ই ২০১৬ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ব্যাংকের হ্যাকারদের মাধ্যমে চুরি হওয়া মিলয়ন মার্কিন ডলারের কথা ভুলে যায়নি।
মহিউদ্দিন আহমেদের ভাষায়, ইতিমধ্যে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চলমান কার্যক্রম শেষ হতে না হতেই পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ঘোষণায় এসেছে। আমরা জানি, ১৭৬০ থেকে ১৮৪০ সাল পর্যন্ত ছিল প্রথম শিল্প বিপ্লব যেখানে বাষ্পীয় ইঞ্জিন ছিল এই শিল্প বিপ্লবের অন্যতম সূত্র। দ্বিতীয় শিল্প বিপ্লব শুরু হয় বিদ্যুৎ নির্ভর গণ উৎপাদন অর্থাৎ বিদ্যুৎভিত্তিক ব্যাপক উৎপাদনের মাধ্যমে। ১৮৬০ দশকে সেমিকন্ডাক্টর আবিষ্কারের মাধ্যমে তৃতীয় শিল্প বিপ্লবের যাত্রা শুরু হয়। আর বর্তমান সময়ে চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের যাত্রা শুরু হয়েছে প্রযুক্তিগত উন্নয়নের মাধ্যমে । ফোরজি দ্রুতগতির ইন্টারনেট প্রান্তিক পর্যায়ে সংযুক্তির মাধ্যমে শিল্পের ব্যাপক মানসম্পন্ন উন্নয়ন চতুর্থ শিল্প বিপ্লব বাস্তবায়নের পথ ত্বরান্বিত করেছে।
‘ইতিমধ্যে পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের ঘোষণা শুরু হয়ে গেছে। যেখানে যান্ত্রিক বুদ্ধিমত্তার পাশাপাশি ইন্টারনেটের চলমান বিবর্তনের সাথে নাগরিকদের সমন্বয় সাধন করে উৎপাদনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো। যদিও গ্রিন টেকনোলজি বাস্তবায়ন হবে বড় চ্যালেঞ্জ। আগামীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিশেষ করে জেনারেটিভ এ আই মৃত্যুদিনের স্বয়ংক্রিয়তার আরো ব্যাপক ভূমিকা রাখবে’ -যোগ করেন তিনি।
বামুগ্রাএ সভাপতি মনে করেন, আগামী দিনে পঞ্চমশিল্প বাস্তবায়ন এর পাশাপাশি সাইবার নিরাপত্তা আমাদের দেশের এবং সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবে আগামীতে সংসদে যারা নির্বাচিত হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবেন এবং বাস্তবায়ন করবেন যে সরকার নির্বাচিত হবেন। তাই রাজনৈতিক দলসমূহের এ ব্যাপারে বিস্তারিত তথ্য ও পাত্র তুলে ধরার পাশাপাশি ইসতেহারে ব্যাপক ভূমিকা রাখা উচিত।
প্রসঙ্গত, তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় তথ্য মতে, বাংলাদেশে ২০১৬ সালে সাইবার হামলার সংখ্যা ছিলো ৩৮৯ টি। এরপরের বছর ২০১৭ সালে এই সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৬৮৩টি এবং ২০১৮ সালে সাইবার হামলার সংখ্যা গিয়ে দাড়িয়েছে ৮৭০ টিতে। এই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে সাইবার হামলার সংখ্যা বছরান্তে প্রায় দ্বিগুণ হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এরমধ্যে গত ১৫ আগস্ট সাইবার হামলার বাংলাদেশের বড় ঝড় বয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল ভারতীয় একটি হ্যাকার গোষ্ঠী। এছাড়াও বিদায়ী বছরে দেশের ব্যাংক বীমা সহ বেশ কিছু আর্থিক প্রতিষ্ঠান এমনকি মোবাইলে অপারেটর রাও সাইবার হামলার শিকার হয়। জাতীয় তথ্য ভান্ডারের নাগরিকদের তথ্য প্রকাশ্যে ভেসে বেড়ায় যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে সতর্ক করা হয়।







